ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘সুভা’ আবারও টেলিভিশনের পর্দায় ফিরেছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় চ্যানেল আইয়ে সম্প্রচার করা হচ্ছে প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্র। দীর্ঘ ২১ বছর পর সিনেমাটি পুনঃপ্রচার উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, নতুন সিনেমা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
পূর্ণিমা বলেন, ‘সুভা’ তার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ তাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে সহায়তা করেছে। তিনি জানান, রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘মেঘের পরে মেঘ’, এরপর ‘শাস্তি’ এবং ‘সুভা’— এই তিনটি চলচ্চিত্রই পরিচালনা করেছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। এসব কাজের মাধ্যমে অভিনয়ের ভিন্ন মাত্রা স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
নতুন কোনো চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন দেখা না যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন পূর্ণিমা। তার ভাষায়, অভিনয়ে ফেরার আগ্রহ রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো গল্প বা চরিত্র পাননি, যা তাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে। তিনি মনে করেন, একজন নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গি, শক্তিশালী গল্প এবং চরিত্রের গুরুত্ব— এই তিনটি বিষয়ই নতুন সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
পূর্ণিমা আরও বলেন, দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে তার জন্য সময়োপযোগী চরিত্র তৈরি করা প্রয়োজন। উপমহাদেশের অনেক সিনিয়র অভিনেত্রী এখনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন। তাই তাকে নিয়েও নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অভিনয়জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, দর্শক তাকে বরাবরই রোমান্টিক ও ইতিবাচক চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এবার তিনি নেতিবাচক বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করতে চান। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিনেমা দেখে যেন দর্শকের সেই চরিত্রের প্রতি ঘৃণা জন্মায়— এমন শক্তিশালী চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান তিনি।
চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীল স্বাধীনতার বিষয়েও মত প্রকাশ করেন পূর্ণিমা। তার মতে, অতীতের মতো এখনো বিভিন্ন ধরনের কাটছাঁট ও সীমাবদ্ধতার কারণে নির্মাতারা অনেক সময় গল্পের পূর্ণতা তুলে ধরতে পারেন না। অথচ বিদেশি চলচ্চিত্রে গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাতারা অনেক বেশি স্বাধীনতা পান। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশেও অসংখ্য সত্য ঘটনা রয়েছে, যেগুলো নিয়ে মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা নির্মাণ সম্ভব। তবে প্রয়োজন সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং সাহসী গল্প বলার পরিবেশ।